রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং, বাংলা ১৬, ফাল্গুন ১৪২৭
  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫৯৮৫০৪৮২৫

অবশেষে সিনহা হত্যার দায় স্বীকার, এপিবিএন সদস্যে জবানবন্দি

অবশেষে সিনহা হত্যার দায় স্বীকার, এপিবিএন সদস্যে জবানবন্দি

মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ খান হত্যা মামলায় রিমান্ডে র‌্যাব হেফাজতে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক সদস্য প্রথমবারের মতো হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ওই এপিবিএন সদস্যের নাম মো. আবদুল্লাহ। 
কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে গতকাল বুধবার রাতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। 
এদিন বিকেল ৫টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি বহর আবদুল্লাহকে আদালতে হাজির করেন। পরে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিচারক তামান্না ফারাহর আদালতের খাস কামরায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানি গ্রহণ করা হয়।জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ৮টায় আসামি আবদুল্লাহকে প্রিজন ভ্যানে করে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ। 
সিনহা হত্যা মামলায় মো. আবদুল্লাহসহ রিমান্ডপ্রাপ্ত এপিবিএন-এর ৩ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ২২ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারগার থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয় র‌্যাব।
এই তিন এপিবিএন সদস্য হলেন- এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আব্দুল্লাহ। গত ৩১ জুলাই সিনহা হত্যার রাতে এই তিনজনই এপিবিএনের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 
এর আগে মেজর সিনহা হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত ১৮ আগস্ট এপিবিএনের এই তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে র‌্যাব। ওইদিনই কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাদের প্রক্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন তামান্না ফারাহর আদালত। 
গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাক বাহারছড়া চেকপোস্টে নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। 
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসী বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে এসআই লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছিল। 
আলোচিত এ হত্যা মামলার ৯ আসামি হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক আছেন।সিনহা হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৭ পুলিশ, আর্মড পুলিশের ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বিভিন্ন সময় প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

ট্যাগস:


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়