শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং, বাংলা ১৫, ফাল্গুন ১৪২৭
  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫৯৭৯১৭৯৭১

অসময়ে তরমুজ চাষে সফল কৃষক আব্বাস আলী

অসময়ে তরমুজ চাষে সফল কৃষক আব্বাস আলী

বর্ষার এই মৌসুমে তরমুজ চাষের উপযোগী সময় নয়। এই মৌসুম হচ্ছে তরমুজ উঠে যাওয়ার সময়। কিন্তু এই আগস্টে বর্ষার মৌসুমে শুরু হয়েছে মাচায় ঝুলিয়ে চাষ করা কালো তরমুজের মৌসুম। এই তরমুজ চাষ করে প্রথমবারের মতো তরমুজের বাণিজ্যিক চাষে সফল হয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার কৃষক আব্বাস আলী।
এই তরমুজ অ-মৌসুমী হওয়াতে পাচ্ছেনও ভালো দাম। উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের মাঠে তিনি এই তরমুজের চাষ করেছেন। আগস্টে ‘অব সিজন’ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে তরমুজ বিক্রি করছেন ১০০ টাকা কেজি দরে।
অসময়ে পাওয়ায় বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে মিষ্টি এই তরমুজের বলে জানিয়েছেন কৃষক আব্বাস আলী। তার সফলতায় অনেক কৃষক এখন এই জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
সূত্র জানাযায়, উপজেলায় এই জাতের তরমুজ আব্বাস আলী প্রথম চাষ করেছেন। বর্তমানে শুরু হয়েছে বিক্রির কার্যক্রম। কেজিপ্রতি এ তরমুজ বিক্রি করছেন ১০০ টাকা। গ্রামের বাজারে প্রকৃত সময়ে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বাজার দরে তরমুজ বিক্রি হয়।বর্তমানে বিঘাপ্রতি ১৫০ মণ তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে তার। স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে কৃষক আব্বাস আলীর আশা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করবে এই তরমুজ।এদিকে অসময়ে তরমুজ হওয়ার কারণে চাহিদা ব্যাপক। বিপণন কার্যক্রমের জন্য কোথাও যেতে হয়নি তাকে। আগ্রহীরা জমিতে এসেই কৌতূহল ভরে তরমুজের ফলন দেখছেন এবং কিনছেন।
সম্প্রতি কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান তার তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। চারদিকে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা হলেও মাটিতে খড়ের বিছানা বিছিয়ে নয় তিনি মাচায় ঝুলিয়ে চাষ করেছেন এই তরমুজ।
তরমুজকে কীটনাশকমুক্ত এবং সম্পূর্ণ অর্গানিক রাখতে তিনি নেটের ব্যাগে ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ফলে ক্ষেতে তার এ তরমুজের আকৃষ্টতাও বেড়েছে। ঝুলিয়ে থাকার ফলে পানিতে নষ্ট হওয়ার ভয়ও নেই। তার ক্ষেতে উৎপাদিত এই তরমুজের ওজন তিন থেকে চার কেজি।এ ছাড়া এই তরমুজ বারমাসি জাতের। তিনি আবারও আরও জমিতে সম্প্রতি বপন করেছেন। এগুলো আগামী অক্টোবর মাসে ফলন দেয়া শুরু হবে। অসময়ে মাটি থেকে উঁচুতে ঝুলিয়ে তরমুজের চাষকে ফল উৎপাদকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত বলে কৃষিবিদরা মনে করেন।
তরমুজ চাষি আব্বাস আলী আরও বলেছেন, তিনি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। পাশাপাশি নাটোরে কৃষির জন্য কিছু একটা করার ভাবনা থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছেন। বিদেশি প্রযুক্তিতে তিনি এ উপজেলায় তরমুজের পাশাপাশি বারমাসি বিভিন্ন ফলের চাষ শুরু করেছেন। এ ছাড়া তিনি এ অঞ্চলের আগ্রহী কৃষক ও শিক্ষিত বেকারদের জন্য কৃষি বিষয়ে সহযোগিতা করতে চান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী বলেছেন, কৃষক আব্বাস আলীর এ সফলতায় উপজেলায় এ জাতের তরমুজ চাষের সম্ভাবনার নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এ জাতের তরমুজ মাত্র ৭০ দিনেই ফলন শুরু হয়। অসময়ের হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তা ছাড়া কৃষক বেশ ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন।

ট্যাগস:


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়