রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং, বাংলা ১৬, ফাল্গুন ১৪২৭
  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫৯৭৮৪৫২৪১

করোনার মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক, এক সপ্তাহেই আক্রান্ত ২০

করোনার মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক, এক সপ্তাহেই আক্রান্ত ২০

মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে এমনিতেই বিপর্যস্ত দেশ। কয়েক মাস পর সব কিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা হচ্ছে। এর মধ্যেই আবার শঙ্কা দেখা দিয়েছে আরেক মরণঘাতি রোগ ডেঙ্গু। রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে এডিশ মশা। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী।করোনার কারনে যে রাজধানী সংক্রমণ বৃদ্ধির দিকে রয়েছে, সেই রাজধানী ঢাকাতে গত একসপ্তাহে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমানে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন দুইজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।তাদের দেয়া তথ্য মতে, সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশিরভাগই বিজিবি সদস্য। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৩ জনের ১১ জনই বিজিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অবশিষ্ট দুজনের একজন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ও অপরজন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত এক সপ্তাহে (১২ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত) প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫ জন, ১ জন, ৫ জন, ১ জন, ৪ জন, ২ জন ও ২ জন।
জানা গিয়েছে, গত চলতি বছর সর্বমোট ৩৯৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে জানুয়ারিতে ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ জন, মার্চে ২৭ জন, এপ্রিল ২৫ জন, মে মাসে ১০ জন, জুনে ২০ জন, জুলাইয়ে ২৩ জন ও ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত ৪৪ জন ভর্তি হয়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি মোট রোগীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ৩৭৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রকোপ যেন বাড়তে না পারে সে লক্ষ্যে বিগত যে কোন সময়ের তুলনায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা পরিকল্পিতভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কিন্তু তারা বেশ কিছুদিন লক্ষ্য করেছেন ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রায় সকলেই বিজিবি হাসপাতালে ভর্তি।
উল্লেখ্য, গত বছর স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ডেঙ্গু। ২০১৯ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করেছে বাংলাদেশ। সে বছর এপ্রিল থেকে দেখা দেয়া ডেঙ্গু জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মহামারি রূপ ধারণ করেছে। সে বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবে এক লাখে পৌঁছে ছিল। এর মধ্যে তখন মারা গেছে ১২১ জন। যদিও বেসরকারি হিসেবে সেই সংখ্যা অনেক। তাদের হিসেবে, সারা দেশে কয়েক লক্ষাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে তিনশ’র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ কারণেই চলতি বছরে করোনা ভাইরাসের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রভাব সর্বত্র দেখা দিয়েছে আতঙ্ক

ট্যাগস:


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়