মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১ ইং, বাংলা ১৮, ফাল্গুন ১৪২৭
  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫৯৮৪৫৩১৭৪

কুয়াকাটায় হোটেলে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ; গ্রেফতার ২

কুয়াকাটায় হোটেলে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ; গ্রেফতার ২

নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় বরগুনার আমতলী উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে আবাসিক হোটেলে গণধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- জিসান ওরফে সোহেল (১৮) ও ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালক সাগরকে (২১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। জিসান ওরফে সোহেল মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের বাদশা গাজীর পুত্র এবং ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালক। সাগর আমতলী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সানু হাওলাদারের ছেলে। 
মামলা এজহার সূত্রে জানা গিয়েছে, কলাপাড়ার মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের বাদশা গাজীর ছেলে জিসান ওরফে সোহেলের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার মাধ্যমে বন্ধুত্ব হয় ওই শিক্ষার্থীর। এক পর্যায়ে জিসান ওই শিক্ষার্থীর সাথে দেখা করার প্রস্তাব দেয়।
গত সোমবার(২৪আগষ্ট) বিকেলে জিসান দেখা করতে ওই শিক্ষার্থীর বাসার সামনে যায়। এরপর ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে কল করলে সে বাসা থেকে বের হয়ে জিসানের সাথে দেখা করতে আসে। এ সময় জিসান তাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে একটি অটোরিকশায় তুলে আমতলী সদর ইউনিয়নের খুড়িয়ার খেয়াঘাটের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ছিল একটি ভাড়াটে মোটরসাইকেল।
এরপর ওই শিক্ষার্থীকে মোটরসাইকেলে তুলে কুয়াকাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর ওই দিন রাত ৮টার সময় কুয়াকাটা পর্য্টন কেন্দ্রের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠে। সেখানে জিসান ওরফে সোহেল ও সাগরসহ পাঁচজনে মিলে গণধর্ষণ করে ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে।
এরপর ওই হোটেল থেকে শিক্ষার্থীকে অন্য একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানেও হোটেলটির নীচ তলার দু’টি কক্ষ ভাড়া নিয়ে পুনরায় পাঁচ যুবক মিলে ধর্ষণ করে স্কুল শিক্ষার্থীকে। 
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ধর্ষণকারীরা ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে একটি পরিবহনে তুলে আমতলী পাঠিয়ে দেয়। সে বাড়িতে গিয়ে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা জানায়।
মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষার্থীর মা আমতলী থানায় ৩ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গণধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে আমতলী থানা পুলিশ জিসান ওরফে সোহেলকে কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়ন থেকে এবং সাগরকে আমতলী পৌর এলাকার চৌরাস্তা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। 
আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। আমরা দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকিদেরও গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চলছে। শিক্ষার্থীর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস:


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়