শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১ ইং, বাংলা ২২, ফাল্গুন ১৪২৭
  • সাঈদ হোসেন সজীব
  • ১৫৯৫১৩৩৬১০

গার্মেন্টসে অর্ডার ফিরছে, শ্রমিকদের চাকরি কি ফিরবে?

গার্মেন্টসে অর্ডার ফিরছে, শ্রমিকদের চাকরি কি ফিরবে?

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরী পোশাক শিল্পে স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে। স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশগুলো নতুন করে চালু করছেন ক্রেতারা। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ অর্ডার ফিরেছে বলে জানা গেছে।

বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে বাতিল হওয়া রপ্তানি আদেশের ৮০ শতাংশই ফিরেছে। কারখানা মালিকদের এই সংগঠনের সভাপতি ড. রুবানা হকও সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ক্রেতাদের সাথে আলোচনা ও মধ্যস্থতা করা হচ্ছে। অবশ্য ক্রয়াদেশ ফিরলেও বায়াররা অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই ছয় মাস কিংবা এক বছরের মতো লম্বা সময় নিচ্ছেন তারা। আবার কেউ কেউ দামে ছাড় দিতে বাধ্য করছেন। বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মশিউল আজম সজল বলেন,আমরা এখনো বলতে পারছি না যে আসলে পরিস্থিতি কোনো দিকে যাচ্ছে৷ তবে কিছুটা ইতিবাচক হলো আমাদের কাছে যে কাপড়গুলো রেডি ছিলো সেগুলো এখন তারা নিচ্ছে৷ খুব যে বেশি নতুন অর্ডার আসছে তা নয়৷ ফলে সামনের সময়ে অর্ডার কেমন আসে সেটা দেখতে হবে।

বিজিএমইএ র সহ-সভাপতি মশিউল আজম সজল বলেন,আমরা এখনো বলতে পারছি না যে আসলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে৷ তবে কিছুটা ইতিবাচক হলো আমাদের কাছে যে কাপড়গুলো রেডি ছিলো সেগুলো এখন তারা নিচ্ছে৷ খুব যে বেশি নতুন অর্ডার আসছে তা নয়৷ ফলে সামনের সময়ে অর্ডার কেমন আসে সেটা দেখতে হবে৷

বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্ত দেখিয়ে চলতি বছর একের পর এক রপ্তানি আদেশ স্থগিত করে ক্রেতারা৷ বিজিএমইএর হিসাবে, তিন শতাধিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩১৫ কোটি ডলারের (প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি আদেশ স্থগিত হয়েছিল৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে রপ্তানিকারকদের পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেয় সরকার৷ তারপরও বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে৷ চাকরি হারিয়েছেন অনেক শ্রমিক৷

মশিউল আজম সজলের মতে, করোনা মহামারিতে ৩৪টি বড় ও মাঝারি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে৷ তবে কত সংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব দিতে পারেননি তিনি৷

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন,আমাদের সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী করোনার পরিস্থিতে ১ লাখ ১০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন৷ বহু শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেননি মালিকরা৷ দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে কেউ কেউ পাওনা পেলেও অনেককেই পাওনার জন্য লড়ে যেতে হচ্ছে৷ তবে শুধু যে চাকরি হারিয়েছে, বিষয়টা এমন নয়৷ আবার নতুন চাকরিও পেয়েছেন অনেকে৷ আসলে মালিকরা দীর্ঘদিনের পুরাতন শ্রমিককে বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিক নিচ্ছেন৷ কারণ একজন শ্রমিক দীর্ঘদিন এক প্রতিষ্ঠানে থাকলে তার বেতন বেড়ে যায়৷ আর নতুন শ্রমিক নিলে তার বেতনও কম, পাওনাও থাকে না৷ করোনা পরিস্থিতিতে এই সুযোগটাই নিয়েছেন গার্মেন্টস মালিকরা৷ তবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ওই শ্রমিকরা অন্য কোথাও কম বেতনে হলেও চাকরি পেয়ে গেছেন৷ ফলে খুব বেশি শ্রমিক এখন বেকার নেই৷ তারপরও ২৫-৩০ হাজার শ্রমিক এখনো বেকার৷

ট্যাগস:


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়