শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং, বাংলা ১৫, ফাল্গুন ১৪২৭
  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫৯৮২৬০৫৯৪

ডিবি পুলিশের পরিচয়েই ‘ওরা ১১ জন’ পুলিশের হাতে ধরা।

ডিবি পুলিশের পরিচয়েই  ‘ওরা ১১ জন’ পুলিশের হাতে ধরা।

‘ওরা ১১ জন’ এটা কোন সিনেমার গল্প নয়। ওরা দাঁপিয়ে বেড়াতো ঢাকা শহরের এপার থেকে ওপার। ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ছিনতাই করাই ছিল ওদের উদ্দেশ্য। ডিবি পুলিশের পরিচয়েই এসব কর্মকাণ্ড চালানোই ছিল ওদের প্রধান কৌশল। এমনই একটি ছিনতাইচক্রের ১১ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বংশাল থানা পুলিশ।
এসময় তাদের কাছ হতে একজোড়া হ্যান্ডকাপ, ২টি ডিবি জ্যাকেট ও ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. সাইফুল আলম মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-আনোয়ার গুলদার (৪২),  মোঃ ইকবাল (৩৪), সরোয়ার হোসেন ওরফে সরোয়ার খাঁ, মোঃ দুলাল (৩৮),আমির (৩৮), মোঃ নাছির হাওলাদার (২৮),মোঃ সুমন (৩০) , ইমন ওরফে কাজল কুমার দে (২৮),মোঃ রমজান (২৭), (২৩), মোঃ জাকির হোসেন (৩৮),ওমোঃ সোহাগ খান ।
এসি সাইফুল আলম মুজাহিদ বলেছেন, ‘গত ১৭ আগস্ট সকালে কোতয়ালি থানার জনসন রোডে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে জোরপূর্বক ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সংক্রান্তে কোতয়ালি থানায় মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের আশাপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ১৯ আগস্ট ভোরে রায় সাহেব বাজার মোড় থেকে ছিনতাইয়ের ঐ ঘটনার অভিযোগে মো. সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়।
সোহাগের দেয়া তথ্য মতে, এই ১১ জন ছিনতাইকারী গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর একইদিনে গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানার দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান করে এই চক্রের ইকবাল, জাকির ও সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও বলেছেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য মতে টঙ্গী চেরাগ আলী থেকে সরোয়ার খাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে সরোয়ারকে নিয়ে পল্টন ও নর্দা এলাকায় অভিযান করে দুলাল, আনোয়ার, আমির, নাসির, ইমন ও রমজানদের গ্রেফতার করা হয়। ঐ দিনেই রিমান্ডের আবেদনসহ গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। 
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সোহাগ, ইকবাল ও দুলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে অন্য ৮ জন অভিযুক্তকে ৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
তাদের অপরাধের কৌশল ও ধরণ সম্পর্কে এসি কোতয়ালি মো. সাইফুল আলম মুজাহিদ জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরা একটি গ্রুপ তৈরি করে প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় তারা ঠিক করে নেয় কোন এলাকায় ছিনতাই করবে। সে মোতাবেক নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান নিয়ে টার্গেটকে অনুসরণ করে। অতঃপর ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে টার্গেটের দেহ তল্লাশি করার নাম করে টাকা পয়সা ও মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ট্যাগস:


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়