মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১ ইং, বাংলা ১৭, ফাল্গুন ১৪২৭
  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫৯৮৪৪১৬৫৩

দাগনভূঞায় আর্সেনিকের ঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ

দাগনভূঞায় আর্সেনিকের ঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ

দাগনভূঞার ৮ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় ৪ লাখ মানুষ আর্সেনিকের ভয়াবহ ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। উপজেলায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছেন এসব এলাকার মানুষ।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্র জানিয়েছেন, ১৪১.৭১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দাগনভূঞা উপজেলায় মোট অগভীর নলকূপের সংখ্যা ২৪ হাজার ১৭৩টি।সরকারিভাবে স্থাপনকৃত অগভীর নলকূপের সংখ্যা ২ হাজার ৪৫২টি ও গভীর নলকূপের সংখ্যা ৪৩৫টি। গভীর নলকূপের মধ্যে সহনীয় মাত্রায় আর্সেনিক থাকলেও অগভীর নলকূপের মধ্যে ৮০ শতাংশ নলকূপ মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে।

মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক নিয়েই দৈনন্দিন জীবনযাপন করছেন উপজেলাবাসী।পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২০০ লোক আর্সেনিকে আক্রান্ত হন। ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের আওতায় সহযোগী সংস্থা এমইউএস ও এনডিএসের জরিপে এখানে আর্সেনিকের যে মাত্রা পাওয়া গেছে তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি।

অসহনীয় মাত্রার আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের মাথায় লাল রঙ লাগিয়ে পানি পান নিষিদ্ধ করলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এতে তেমন লাভ হচ্ছে এ উপজেলায় আর্সেনিকের ভয়াবহতা থাকার পরও সংশ্লিষ্ট বিভাগের আর্সেনিক বিস্তার রোধে আজও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে। বাধ্য হয়েই এলাকার মানুষ আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের বিষাক্ত পানি পান করছেন।ফলে দাগনভূঞায় আর্সেনিকের প্রভাব দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার আর্সেনিকের মাত্রা ০.১০ মিলিগ্রাম। উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের বাদামতলী সরকারি আবাসন প্রকল্পে ৮২৫ ফুট গভীর নলকূপ তিনটিতে এ মাত্রা ধরা পড়েছে।

গভীর নলকূপ ছাড়াও আবাসন প্রকল্পে অগভীর নলকূপ রয়েছে ছয়টি। তার মধ্যে তিনটিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকায় লাল রঙ দেয়া হয়েছে। পানির প্রয়োজনীয়তায় বাধ্য হয়ে এখানকার ৬০টি পরিবারের বিভিন্ন বয়সের মানুষ বিপজ্জনক নলকূপের পানি পান করছেন। একই ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামের ওলি উল্যাহর বাড়িতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছিল। আর্সেনিকমুক্ত পানি না থাকায় এ পানি পান করে একই পরিবারের চারজন আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। গৃহিণী সাফিয়া খাতুন ও তার মেয়েসহ চারজন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে খসখসে কালো দাগ দেখা দিলেও আহামরি চিকিৎসা হয়নি। দূরের গ্রাম থেকে পানি এনে পান করার পরও এ রোগ আর সারেনি বলে তারা জানান। মাতুভূঞা ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের একই বাড়িতেই আর্সেনিক রোগী ধরা পড়েছে ১০ জন।

বাড়ির আবুল হোসেনের স্ত্রী মাফিয়া আক্তার বলেছেন, তার মেয়ে বিবি মরিয়ম আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত। একই বাড়ির আবুল কাশেমের মেয়ে রিনা আক্তার, পেয়ার আহমদের স্ত্রী আলেয়া বেগমও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস জানিয়েছেন, ২০০৩ সালে আর্সেনিক রোগী শনাক্ত করা হয় ১০০ জন। বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ জনের অধিক। উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় ১২৩ গ্রামেই আর্সেনিক রোগীর সন্ধান মিলছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন। সর্বশেষ ২০০৩ সালে জরিপ হলে আর কোনো জরিপ হয়নি বলে জানা যায়।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী  বলেছেন, এ উপজেলার প্রায় প্রতিটি নলকূপেই আর্সেনিক রয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট এলাকায় সরকারিভাবে দেয়া গভীর নলকূপেও আর্সেনিক পাওয়া গেছে। তিনি বলেছেন, আমাদের নিজ উদ্যোগে বিকল্প নিরাপদ পানির উৎস খুঁজে নিতে হবে।

ট্যাগস:


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়