সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১ ইং, বাংলা ২৩, ফাল্গুন ১৪২৭
  • ঢাকা টাইমস নিউজ ডেস্ক
  • ১৫৯৫৫৭২৭৭৫

পদ্মায় বিলীন ‘চরের বাতিঘর’, শিক্ষার্থীদের কান্না

পদ্মায় বিলীন ‘চরের বাতিঘর’, শিক্ষার্থীদের কান্না

পদ্মার চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষার সুযোগ দানে এসইএসডিপি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছিল স্কুলটি। গত কয়েক বছর ধরেই ভাঙনের কারণে ঝুঁকির মুখে ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয়রা বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে স্থাপনাটি বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে বন্যার পানির তীব্র স্রোত ও নদীভাঙনে স্কুলটি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে বন্যার পানিতে বিদ্যালয়টির মাঠ প্লাবিত হয়। এর আগে নদী ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন স্থানে চলে আসে। এবারে বন্যার পানির তোড়ে ভাঙন আরও বেড়ে যায়। গত দুই দিন ধরে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিতে বিদ্যালয়ের নিচতলার অর্ধেক পরিমাণ পানিতে প্লাবিত হয়। এই অবস্থাতে স্রোতের তোড়ে বিদ্যালয়টি ধসে পরার উপক্রম ছিল। তবে স্থানীয়দের কিছুটা আশা ছিল বিগত বছরের মতো এবারও হয়তো বিদ্যালয়টি টিকে যাবে। তবে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যালয়টি আস্তে আস্তে কিছুটা হেলে যায়। অবশেষে বৃহস্পতিবার প্রায় পুরো তিনতলা ভবনটি বিকট শব্দে ধসে পড়ে। এখন বিদ্যালয়টি প্রায় ধ্বংসাবশেষ। শুধু কিছু অংশ দৃশ্যমান আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে শিবচর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলবেষ্টিত বন্দরখোলা ইউনিয়নের এই ‘নূরুদ্দিন মাদবরেরকান্দি এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়’টি স্থাপন করা হয়। এই বিদ্যালয়টি চর এলাকার ছোট-বড় ১৫টির বেশি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করতো। চরাঞ্চলের মধ্যে এই বিদ্যালয়টি ছিল ওই এলাকার সর্ববৃহৎ ও তিনতলা ভবনসহ আধুনিক সুবিধাসমৃদ্ধ একটি উচ্চবিদ্যালয়। মূল ভূখণ্ড অর্থাৎ শিবচরের উপজেলা সদর এখান থেকে দূরবর্তী হওয়ায় চরাঞ্চলের ছেলেমেয়েরা অন্যত্র গিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ পায় না। তুলনামূলকভাবে শিক্ষার আলোবঞ্চিত এই বিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।

আরও পড়ুন: পোশাকশিল্প মালিকেরা মজুরি দিতে আবার ঋণ পাচ্ছেন

মাদারীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছর বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়লে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধ করা হয়। এবারের বর্ষা মৌসুমের শুরুতেও সেই জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা ছিল। কিন্তু ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য কোনও প্রচেষ্টা ছিল না।

শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ইসমাইল হোসেন জানান, বুধবার রাতে স্কুলের দিক থেকে প্রচণ্ড শব্দ আসতে থাকে। তখনই সবাই বুঝতে পারে হয়তো রাতেই পদ্মায় স্কুলটি বিলীন হয়ে যাবে। এলাকার মানুষ নৌকা ও ট্রলার নিয়ে বিদ্যালয়ের কাছাকাছি গিয়ে দেখতে পায় বিদ্যালয়টি মাঝখান থেকে ফাটল ধরে পেছন দিকে হেলে পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর চোখের সামনে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষজন তাদের স্বপ্নের এই প্রতিষ্ঠানটি হারিয়ে যেতে দেখে কষ্টে ভেঙে পড়েন।

নূরুদ্দিন মাদবরেরকান্দি এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, এটি শিবচরের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল। এই চরকে স্কুল, বিদ্যুৎ, পাকা সড়কসহ আধুনিক সুবিধা দিয়ে সাজানো হয়। গত তিন বছর ধরে বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে রক্ষা করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু এবার বন্যার পানির স্রোত মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে গেলো।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রত্যন্ত চরের মধ্যে এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। এটি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এ বছর বন্যার পানির স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে গেলো।

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষার্থে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের কিছু কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ বছরও বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। তারপরও ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়টি আজ প্রায় পুরোটাই নদীর গর্ভে চলে গেছে।

ট্যাগস:


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়