বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং, বাংলা ১৩, ফাল্গুন ১৪২৭
  • ঢাকা টাইমস নিউজ ডেস্ক
  • ১৫৯২৪৬০১৫৩

পোশাক কারখানায় বুধবার পর্যন্ত ২১৩৩১ জন ছাঁটাই

পোশাক কারখানায় বুধবার পর্যন্ত ২১৩৩১ জন ছাঁটাই

গার্মেন্টস কর্মীর এ কান্নাই বলে দেয় করোনাকালে কতটা বিপন্ন অবস্থায় আছে তারা। বেতন ভাতা মেলে না। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা চাকরি থেকে বাতিল। প্রতিবাদে সড়কে বিক্ষোভ। সেখানেও পুলিশের বাধা।

মহামারী করোনাভাইরাস সংকট নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার মধ্যেই তৈরি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) চলছে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ধুম। পোশাক কারখানার মালিকরা শ্রম আইন মেনে ছাঁটাই করার কথা বললেও বাস্তবে অনেক কারখানা কর্মী ছাঁটাইয়ে আইন মানছেন না তারা। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন বকেয়া ও অন্যান্য সুবিধাদি বাকী রয়েই গেছে। এমতাবস্থায় ছাঁটাই বন্ধ, চাকরিতে পুনর্বহাল ও বকেয়া বেতন পরিশোধ করাসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানী ও ঢাকার সাভারে গতকাল বুধবার রাস্তায় নেমে আসেন পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা। বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। এ কারণে সড়কে যান চলাচল অনেকটা ব্যাহত হয়, সৃষ্টি হয় যানজটের। ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ যাত্রীরা। তবে কোথায়ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর উত্তরায় তিনটি পোশাক কারখানার কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বলে জানা গেছে। এতে দুপুর থেকেই উত্তরা থেকে বনানী পর্যন্ত সড়ক এবং প্রগতি সরণি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। একইভাবে মিরপুর-১ নম্বরের সনি সিনেমা হলের সামনে তিন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা। নারায়ণগঞ্জের ফকির নিটের কর্মীরাও আন্দোলন করছেন।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ১২৯টি কারখানায় ২১ হাজার ৩৩১ জন কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ৮৬ কারখানা, বিকেএমইএর ১৬, বিটিএমএর চার, বেপজার আট এবং অন্যান্য ১৫ কারখানা।

গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের তথ্য মতে, প্রতিদিন ঢাকা, গাজীপুর, সাভারের আশুলিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলে চলছে শ্রমিক বিক্ষোভ। কোনো কোনো সময় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধও করছেন। শ্রমিক নেতারা বলছেন, গণহারে এমন ছাঁটাই চলতে থাকলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে। তারা আরো বলছেন, মালিকরা সরকারের কাছ থেকে এত সহযোগিতা পেলেন, তার পরও মামলা, হামলা ও ছাঁটাই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মালিকরা যে হারে কার্যাদেশ (অর্ডার) বাতিল হওয়ার কথা বলছেন, বাস্তবে তা নয় বলেও দাবি করেন শ্রমিক নেতারা।

বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল উত্তরার আজমপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন উত্তরার ভার্সাটাইল, চৈতী ও শান্তা গার্মেন্টের শ্রমিকরা। তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় বনানী থেকে উত্তরা এবং রামপুরা থেকে প্রগতি সরণির কুড়িল ফ্লাইওয়ার পর্যন্ত দিনভর তীব্র যানজট লেগে ছিল।

ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-উত্তর) সাইফুল হক জানান, ‘যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

দুপুরের দিকে মিরপুর-১ নম্বরের সনি সিনেমা হলের সামনে সড়ক অবরোধ করে জেএমএইচ ফ্যাশন, জেএমএইচ ডিজাইন ও সিনহা নিট-ডেনিম নামের তিনটি কারখানার কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। বিকেলের দিকে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

প্রায় একই সময় আশুলিয়ার জামগড়া ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে অন্তত ১০টি সংগঠনের নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার গার্মেন্টকর্মী বিক্ষোভ করেন। এ সময় আশপাশের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ট্যাগস:


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়