মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১ ইং, বাংলা ১৭, ফাল্গুন ১৪২৭
  • ঢাকা টাইমস নিউজ ডেস্ক
  • ১৫৯৫০০০৮০৮

মৃতরা ব্যাংকে গিয়ে টাকা তোলেন

মৃতরা ব্যাংকে গিয়ে টাকা তোলেন

ছবিঃ ঢাকা টাইমস নিউজ

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার তারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪৩ জন মৃত ব্যক্তির বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা ব্যাংক থেকে তোলার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন ঐ চেয়ারম্যান। সর্ব মহলে প্রশ্ন উঠেছে এখন, তাহলে কি মৃত ব্যক্তিরা ব্যাংকে গিয়ে ভাতার টাকা তোলেন?

ওই ইউপির ১, ২ এবং ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য মোছা. জরিনা বেগম এই লিখিত অভিযোগ তুলেছেন বলে জানাগেছে। লিখিত অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সামাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৪৩ জন কার্ডধারী বিভিন্ন সময় মারা গেছেন। মারা যাওয়ার পর এই কার্ডগুলো গ্রামের মানুষ চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের কাছে জমা দেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম ও সদস্যরা নির্ধারিত সময়ে সমাজসেবা অফিসে মৃত ব্যক্তিদের কার্ড জমা বা নাম পরিবর্তন না করে নিজের হাতে রাখেন। পরে মৃত ব্যক্তিদের জীবিত দেখিয়ে জাল সই করে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

শুধু কি তাই, চেয়ারম্যানের বাবা হাসিম উদ্দিনও মারা গেছেন প্রায় এক বছর আগে। তাঁর বয়স্ক ভাতার কার্ডটিও জমা ও পরিবর্তন না করে জাল সই করে ব্যাংক থেকে টাকা তোলা হচ্ছে এ অভিযোগে।

ইউপি সদস্য মোছা. জরিনা বেগম জানান, সুসদর পুকুর গ্রামের গজেন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী জিরো বালার নামে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড ছিল। তিনি গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। এরপর নমিনি কাহারোল উপজেলা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে মৃত্যুকালীন টাকা তুলতে যান। টাকা তোলার পর কার্ড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রেখে দেয়। কিছুদিন পর ওই কার্ডের সন্ধান করতে গেলে তা আর পাওয়া যায়নি। পরে সমাজসেবা দপ্তরে গিয়ে নাম-ঠিকানা দিলে কার্ডটির নম্বর, ক্রমিক ও হিসাব নম্বর পান। পরে আবার ব্যাংকে গেলে ব্যবস্থাপক কার্ডটি বের করে দেখান। তাতে দেখা যায়, মৃত্যুকালীন টাকার পর দ্বিতীয়বার টাকাও তোলা হয়েছে। এই ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন একে একে জানা যায়, কার্ডধারী দুলফো বেওয়া, চণ্ডিবালা, মো. জসিম উদ্দিন, হাচিম'উদ্দিন, মফিজা বেওয়া, গোবিন্দ মহন্ত, প্রফুল্ল মহন্ত, বিজয় বর্মন, সমারি বেওয়া, শারোদা বেওয়া, চুরু মোহন'দেব, পণ বেওয়া, বদি মহন রায়, মঞ্জনী বেওয়া, অশ্বনী কুমার রায়, অনিক চন্দ্র রায়, বিরেশ চন্দ্র রায় ও মমেনা বেওয়া মারা গেছেন। কিন্তু এর পরও তাঁদের টাকা ব্যাংক থেকে তোলা হচ্ছে।

জরিনা বলেন, ‘এসব নিয়ে সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান ও জড়িত ইউপি সদস্যরা তিনবার মিটিং করেছেন। কিন্তু আমাকে জানানো হয়নি।’

চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। সভার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে তোলা টাকা উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যে টাকাগুলো উত্তোলন করা হয়েছে ইউপি সদস্যরা সেই টাকা জমা দিচ্ছেন। ভাতার কার্ড নিয়ে ইউপি সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া হওয়ায় তিনি এই অভিযোগ করেছেন।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজীব কুমার বাগচি বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল হাসান বলেন, ‘উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগস:

টাকাব্যাংক

এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়